সোমবার, ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আওয়ামী লীগ আছে বলেই উন্নয়ন হয়েছে, বললেন ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু-এমপি

সোহরাব হোসেন বরগুনা:
সাংবাদিকরা সৌজন্যে সাক্ষাৎকালে, বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি , মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী, বরগুনা-১ আসনের পঞ্চম বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু-এমপি বলেন,পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হলে তরুণ নেতা শেখ মুজিব দলটির যুগ্ম-সম্পাদক নিযুক্ত হন। পরে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নামকরণ করা হয় আওয়ামী লীগ।
বঙ্গবন্ধু ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৫৮-র আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন ও ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলনসহ পাকিস্তানি সামরিক শাসনবিরোধী সব আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাঙালির অধিকার আদায়ের এসব আন্দোলনের কারণে বারবার কারাগারেও যেতে হয় তাকে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। আওয়ামী লীগ প্রধান হিসেবে ১৯৬৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি লাহোরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন তথা বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নামে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠায়। ’৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি শেখ মুজিবকে কারামুক্ত করে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।
’৭০-র নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের ম্যান্ডেট লাভ করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির এ নির্বাচনি বিজয়কে মেনে নেয়নি। এরপর বঙ্গবন্ধু স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলন এবং চূড়ান্ত পর্বে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ দেন।
’৭১-এর মার্চে নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এ ভাষণে সেদিন ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিক নির্দেশনা দেন শেখ মুজিবুর রহমান। যা ইউনেস্কোর ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
’৭১-সালে ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন থেকে ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর বঙ্গবন্ধুকে তার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। অবশেষে নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে বীর বাঙালি ’৭১-সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে। অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশভূমিতে ফিরে সদ্য স্বাধীন দেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
১৯৭৫ সালে জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। এর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ১৫ আগস্টের কালরাতে নিজ বাসভবনে ক্ষমতালোভী ঘাতকদের হাতে সপরিবারে নিহত হন তিনি। স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর জীবনাবসান হয়। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবিস্মরণীয় ভূমিকার জন্যও তিনি সারা বিশ্বে সমাদৃত। এসব ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ‘জুলিও কুরি’ পদকে ভূষিত হন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ৫ জনের ফাঁসির রায় ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর করা হয়। এর মধ্যদিয়ে জাতির ইতিহাসের অন্ধকার যুগের অবসান ঘটে। আজ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি আরো বলেন , বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সারা দেশে উন্নয়ন হয়েছে। তারাই ধারাবাহিকতায় বরগুনায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে । ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু আরও বলেন মহান সংসদে বাজেট আলোচনায় বরগুনার আগামী উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা তুলে ধরেছেন। তার মধ্যে রয়েছে বরগুনা আমতলীর পায়রা নদীর উপর সেতু। বরগুনা বামনা পাথরঘাটা বিষখালী নদীর উপরে সেতু। বরগুনা বেতাগী বাকেরগঞ্জ মহাসড়ক চার লেনে উন্নত। বরগুনা পৌরসভাকে এক নাম্বার পৌরসভায় উন্নত। খুলনা মোংলা বন্দর হয়ে বরগুনা পায়রা সেতুর স্থান পর্যন্ত ছয় লেনের রাস্তা নির্মাণ। এবং বরগুনায় একটি মেঘা প্রকল্প চালু করা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য রাখছেন জানান। তিনি আশাবাদী এই বাজেটেই এই সকল উন্নয়ন প্রকল্প গুলি বাস্তবায়ন হবে। বরগুনা ২৫০ বেডের হসপিটাল নিয়ম অনুযায়ী জনবল নিয়োগসহ চালু হবে। পটুয়াখালীর মতো বরগুনায়ও বহু মেঘা প্রকল্প চালু হবে।
তালতলী অবহেলিত এলাকা ছিলো। ২০% মানুষ আলোকিত ছিল। সরকার শতভাগ বিদ্যুৎ এর আলোয় আলোকিত করেছেন। ৩৫০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা হয়েছে। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরন করা হচ্ছে।পায়রা নদীর মোহনায় তাপ বিদ্যুৎ করে দেয়া হচ্ছে। সেখানে কর্মসংস্হান হয়েছে। ইন্টারনেট সেবা পৌছানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অবকাঠামো বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে। আধুনিক উপজেলা পরিষদ করে দেয়া হয়েছে। তালতলী তে ৩৫ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স করে দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষঃ