সোমবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কুলাউড়ায় কুস্তি উৎসব অনুষ্ঠিত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মাথার ওপর তীব্র রোদ-বৃষ্টির আনাগোনা। তবু ও খেলা দেখতে হবে, শামিল হতে হবে কুস্তির আনন্দ উৎসবে। এমনি আমেজে ভড়ে উঠেছিল মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হিংগাজিয়া চা বাগানে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী কুস্তি উৎসব।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) বিকেলে দর্শকের ব্যাপক উপস্থিতিতে কুস্তি উৎসবের উদ্বোধন করেন বাগানের পণ্ডিত বিপ্লব উপদ্ধ্যায়। উপজেলার বাগানের উপরলাইন এবং নিচুলাইন নামক দুই স্থানে চলে এই ঐতিহ্যবাহী কুস্তি খেলা। সূর্য ডুবার আগে পর্যন্ত চলে এই উৎসব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার রাজ্যে যারা বসবাস করতো তারা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে এসে বসবাস করা শুরু করে। তারা তাদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য শত বছর ধরে চলা এই কুস্তি উৎসব পালন করে আসছে। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতের অনুসারে নাগপঞ্চমীতে কুস্তি উৎসবের আয়োজন করা হয়।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই কুস্তি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনটিকে ঘিরে সারাদিন গ্রামের সবার ঘরে ঘরে ভালো খাবার রান্না হয়ে থাকে, খাওয়া দাওয়া করে কুস্তির জন্য সমবেত হয়। এই কুস্তি উৎসবের কুস্তি প্রতিযোগী জয় পাবার জন্য মাস খানেক আগ থেকেই নিজের শরীরের যত্ন নিতে শুরু করেন কুস্তিবাজ খেলোয়াড়রা।
সরেজমিন দর্শকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লড়াই ছাপিয়ে বন্ধুত্বে ছড়ায় এই কুস্তি। সর্বনিম্ন ১০ বছর থেকে শুরু করে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে বিভিন্ন কেটাগরিতে ভাগ করে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়ে থাকে এই কুস্তি খেলায়।
কুস্তিগিররা জানান, এতো দর্শকের ভিড়ে নিজের হার দেখা অনেক খারাপ লাগা কাজ করে। তারা আরও জানান, মর্দাঙ্গি দেখানো পুরো বছরে একবারই সুযোগ পাওয়া যায়। সেইটাতে সবাই বিজয়ী হতে চায়।
আর যে এই কুস্তিতে জয়ী হয় সে আগামী ১ বছরের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী কুস্তিগির নির্বাচিত হয়ে থাকে।
বিজয়ী কুস্তিবিদরা জানান, আজকের দিনটার জন্য অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করি। আজ আমরা যারা জয়ী হয়েছি সবাই অনেক খুশী এবং ভালো লাগছে।
এছাড়াও লং জাম্পে বিজয়ী সৌরভ রায় বলেন, আমি অনেক জায়গায় লং জাম্পে বিজয়ী হয়েছি তবে এই দিনের জন্য আমিও অনেক আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করে থাকি, এইটা সব সময় আমার জন্য স্পেশাল দিন। বিজয়ী হয়ে অনেক ভালো লাগছে।
কুস্তি প্রেমী শ্রাবণ পাশি বলেন, আমাদের পাশের দেশ ভারত অলিম্পিকে কুস্তি খেলে গোল্ড মেডেল জয় লাভ করে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় তারাও এই রকম উৎসব থেকেই উঠে এসে আজ স্বর্ন পদক জিততে পারে।
যদি বাংলাদেশ সরকার এর কোনো ভালো পদক্ষেপ গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেয় আমার মনে হয় এখান থেকে ও ভবিষ্যতে ভালো কুস্তিগির বের করা যাবে এবং তারা এই বাগানসহ দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।
উল্লেখ্য, কুস্তি ছাড়াও লং জাম্প, হাই জাম্প, ভার উত্তোলন খেলাও অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষঃ