বৃহস্পতিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে নারী-শিশুরা, বেখবর কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সময় যত গড়াচ্ছে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো ঈদযাত্রীদের চাপ তত বাড়ছে। ট্রেনে ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন শুক্রবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে সব ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের দেড়-দুই ঘণ্টা বা তার বেশি দেরিতে ছাড়ছে ট্রেন। সকাল থেকেই প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষ ঝুঁকি নিয়ে উঠছেন ট্রেনে ছাদে। এমনকি নারী-শিশুদেরও ট্রেনের ছাদে হুমড়ি খেয়ে উঠতে দেখা গেছে। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণে বাধা থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা স্টেশন কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।সকালে সরেজমিনে উত্তরবঙ্গগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, ধূমকেতু এক্সপ্রেস এবং রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোতে এমন চিত্রই দেখা যায়। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে এসব ট্রেন নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছেড়ে যেতে পারেনি।

প্লাটফর্ম ঘুরে দেখা যায়, যে যেভাবে পারছেন ট্রেনে উঠছেন। অনেকে জানালা দিয়েও উঠার চেষ্টা করছেন। প্ল্যাটফর্মে হাজারো মানুষের জটলা। করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাইও নেই।

যাত্রীদের অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বাসে দীর্ঘ যানজট, চার ঘণ্টার পথ যেতে লাগছে ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি। খরচও বেশি। তাই বাধ্য হয়েই তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে কমলাপুর স্টেশনে এসেছেন। অনেকে টিকিট পাননি। কিন্তু বাড়ি যেতেই হবে। এ কারণেই ঝুঁকি নিয়ে তারা ছাদে উঠছেন। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু ও বয়স্কদের।এদিন সিলেট ও চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ট্রেনের ছাদে যাত্রী ভ্রমণের চিত্র চোখে পড়েনি। তবে ছাদে যাত্রী ছিল জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনে।

সকালে কমলাপুর স্টেশন থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে গেছে নীলসাগর এক্সপ্রেস। সেই ট্রেনের যাত্রী ফারজানা বলেন, রাস্তায় প্রচুর জ্যাম থাকে। কষ্ট হলেও ট্রেনে যাই। ট্রেনের ভেতর ওঠার কোনো সুযোগ নেই, তাই বাধ্য হয়ে ছাদে উঠলাম। রোজার ঈদে ট্রেনের ভেতরে ভ্রমণ করায় গরমে বাচ্চার খুব কষ্ট হয়েছিল। সেজন্য এবার ছাদে উঠেছি।

সালাম মিয়া নামের এক যাত্রী বলেন, বাসে গেলে অনেক টাকা লাগে। তাই ট্রেনে কষ্ট করে বাড়ি যাচ্ছি। সবাই তো ছাদে উঠেছে, আমি উঠলে কী সমস্যা?প্ল্যাটফর্মে টিকিট ছাড়া প্রবেশের নিয়ম না থাকলেও সকাল থেকে বহু যাত্রী টিকিট ছাড়াই ঢুকেছেন। এর মধ্যে কিছু যাত্রীকে চেক পয়েন্টে বাধার মুখে পড়তে দেখা গেছে। তবে ট্রেনের ছাদ থেকে কোনো যাত্রীকে নামাতে দেখা যায়নি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাউদ্দিন আহমেদ নামের একজন চেকার বলেন, নির্দেশনা থাকলেও কেউ কথা শুনছেন না। আমরা কতজনকে বাধা দেবো। তারপরও সাধ্যমত চেষ্টা করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষঃ