শনিবার, ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

তীব্র দাবদহে বিপর্যস্ত চিতলমারীবাসী

বিশ্বজিৎ মন্ডল, চিতলমারী প্রতিনিধি
তীব্র দাবদহে পুড়ছে চিতলমারীর প্রাণ-প্রকৃতি। প্রতিদিন ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রির উপরে তাপমাত্রা বিরাজ করছে চিতলমরী উপজেলা জুড়ে। তীব্র দাবদহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এখানকার জনজীবন। সূর্যের প্রখর তাপে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ।
প্রচণ্ড রোদে ঘর থেকে বের হতে পারছে না শ্রমিক ও দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। এসব খেটে খাওয়া মানুষ সামান্য স্বস্তি ও শরীর শীতল করতে ছুটছে গাছের ছায়াতলে। অতিরিক্ত গরমে শিশুরা ছুটছে বিভিন্ন শরবত ও পানীয়ের দোকানে। কোথাও কোথাও পুকুরে নেমে পড়ছে শিশুসহ সব বয়সী মানুষ।
মঙ্গলবারও প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে চিতলমারীরর রাস্তাঘাটে লোকজন অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক কম। দিনের বেলায় বাজারের দোকানপাট ও রাস্তাঘাট ছিল অনেকটা ফাঁকা। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
দিনমজুর বিজয় মন্ডল,ফরহাদ শেখ, সন্তোষ মন্ডল, মঙ্গল বৈরাগী বলেন, প্রচণ্ড গরমে কাজ করা যাচ্ছে না। গরমে বসে থেকে জীবিকা চলে না। কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।
দাবদাহের প্রভাব মানুষের পাশাপাশি প্রভাব পড়েছে চিংড়ি চাষেও। চরম ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার বেশির ভাগ মানুষের আয়ের উৎস সাদা সোনাখ্যাত বাগদা চিংড়ি শিল্প। চিতলমারী সদর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের প্রান্তিক চিংড়ি চাষি দেবাশীষ বিশ্বাস জানান,অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর গরমের প্রকোপ বেশি থাকায় এবং অনাবৃষ্টির কারনে পানির সংকট দেখা দিয়েছে মৎস্য ঘেরে। এর ফলে হিটস্ট্রোকে মাছ মারা যাচ্ছে অনেকের। যদি এভাবে আরও কয়েকদিন চলতে থাকে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে এখানকার সাধারণ চাষিদের।
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, অতিরিক্ত গরমে ঘেরের চিংড়ি মাছ অক্সিজেন ফেল করতে পারে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে পুকুর ও মাছের ঘেরে গাছের ডাল পুঁতে রেখে ছায়ার ব্যবস্থা করতে চিংড়ি চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে মাছের ঘেরে অক্সিজেন তৈরি হয়।
এদিকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মামুন হাসান জানান, তীব্র দাবদাহে পানি স্বল্পতাসহ হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে। বাড়ছে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ। তাই তীব্র দাবদাহে শিশু, বৃদ্ধরা খুব জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষঃ