সোমবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ত্রিপুরায় চোর সন্দেহ বাংলাদেশী যুবকে পিটিয়ে হত্যা, পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড

এইচএম পারভেজ আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী এক বাংলাদেশী যুবকে চোর সন্দেহ পিটিয়ে হত্যার করেছে ওখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা। নিহত যুবক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মাদলা এলাকার মোহন মিয়ার (৫০) ছেলে ডালিম মিয়া। এ সময় তার সাথে থাকা জহিরুল ইসলাম নামে আরেক যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আগরতলা একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হত্যাকাণ্ড ঘটনার তিনদিন পর সোমবার (১৪ জুন) রাত ১১টার দিকে আখাউড়া-আগরতলা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের শূন্য রেখায় ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহিজলা জেলার টাকারজলা থানার ওসি দেবানন্দ রিয়াং আখাউড়া থানা পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তর করেন।

এ সময় দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি- বিএসএফসহ ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কসবা উপজেলার মাদলা গ্রামের মোহন মিয়ার ছেলে ডালিম মিয়াসহ একই গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে জহিরুল (৩০), সেলিম মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩০) এবং কসবার কোল্লাপাথর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে হৃদয় মিয়াসহ (২৬) কয়েকজন বাংলাদেশি মিলে শুক্রবার রাতে কসবা সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।

এ সময় সীমান্ত শূন্য রেখায় নিহতের বাবার সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার পার্শ্ববর্তী বাড়ির শিমুল মিয়ার বউয়ের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল ডালিমের। এ বিষয়টি জানাজানি হলে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করে ডালিমকে দ্রুত বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

এই পরকীয়া ঘটনার জের ধরেই শিমুলের ভাই জহিরুলসহ অন্যরা ডালিমকে ভারতে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন নিহত ডালিমের পরিবার।

এই দিকে রাজ্যের টাকারজলা থানার ওসি দেবানন্দ রিয়াং সীমান্ত শূন্য রেখায় সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহিজলা জেলার টাকারজলা থানাধীন গোলাঘাটী গ্রামের একটি বিদ্যালয় থেকে শনিবার সকালে এক শিক্ষকের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকজন যুবক। এ সময় সেখানকার ভারতীয় অধিবাসীরা তাদের চোর সন্দেহ করে ধাওয়া করে ডালিমকে ধরে ফেলে এবং ঘটনাস্থলে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় জহিরুল ইসলাম নামে অপর এক বাংলাদেশি যুবক পিটুনিতে গুরুতর আহত হন। অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে জহিরুলকে জনরোষের কবল থেকে টাকারজলা থানা পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

আখাউড়া স্থলবন্দর চেকপোস্ট বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ডালিমকে কেন এবং কে বা কারা পিটিয়ে হত্যা করেছে, তা জানাতে পারেনি বিএসএফ।

আখাউড়া থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, যেহেতু হত্যাকাণ্ড ভারতে ঘটেছে, সুতরাং ভুক্তভোগী পরিবার এ বিষয়ে বিচার চাইলে ভারতের আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষঃ