শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নেত্রকোনায় পানিবন্দি ৫ লাখ মানুষ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও বারহাট্টা উপজেলায় বন্যা হয়েছে। এরমধ্যে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার সবগুলো গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। অসংখ্য রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলমাকান্দা উপজেলা শহরের চাঁনপুর, নদীপাড়, পশ্চিমবাজার, পূর্ববাজার, কলেজ রোডসহ বেশকিছু এলাকায় এখন হাঁটুপানি থেকে কোমরসমান পানি। মানুষের বাড়িঘর, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বন্যার পানি। উপজেলার সঙ্গে সব ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঠিক একই অবস্থা দুর্গাপুরে।

কলমাকান্দা উপজেলা মোড় এলাকার রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী প্রণয় তালুকদার বলেন, বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় যাই। সকাল ৭টার দিকে এসে দেখি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ৪০০ বস্তা সিমেন্ট নষ্ট হয়ে গেছে। গত দুই বছর আগের চেয়ে এবারের বন্যার ব্যাপকতা আরও বেশি বলে জানান তিনি।

পানিবন্দি শিশুরা এক জায়গা থেকে অন্যত্র যেতে কলা গাছের ভেলা ব্যবহার করছে

উপজেলার বাসাউড়া গ্রামের বাসিন্দা ও কলমাকান্দা সরকারি কলেজের প্রভাষক রোপণ সাহা বলেন, ‘কলমাকান্দার আটটি ইউনিয়নের প্রায় সবগুলো গ্রামই প্লাবিত হচ্ছে। উপজেলার দুই লাখ ৪৫ হাজার মানুষের মধ্যে ৮৫ শতাংশ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। পানি বাড়ছে, মানুষজন আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন।’

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত জানান, ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কংস, মোমেশ্বরী, ধনু, উব্দাখালিসহ ছোট-বড় সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বেশকিছু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম বলেন, ‘কলমাকান্দার সব এলাকাই এখন বন্যার পানি। অবস্থা তেমন ভালো নয়। ইউএনও কার্যালয়, উপজেলা পরিষদসহ শহরে হাঁটুপানি থেকে কোমরসমান পানি। মানুষ আশ্রয় নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৪০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার অবস্থা ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। প্রচুর মানুষ পানিবন্দি। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন করে চাল ও নগদ দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শুকনা খাবারসহ ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষঃ