রবিবার, ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বান্দরবানে বাগমারা পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

মোহাম্মদ আবদুর রহিম, বান্দরবান
বান্দরবানে রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নে বাগমারা পূর্বপাড়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অর্থায়নে নির্মাণাধীন বাগমারা পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণে রোয়াংছড়ি উপজেলা (এলজিইডি) অফিসের প্রকৌশলীদের যোগসাজশে কমল কান্তি দেওয়ান ঠিকাদারী লাইসেন্সের ঠিকাদার এর বিরুদ্ধে নির্মাণাধীন স্কুলের একাডেমিক ভবনে নিম্নমানে সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় পাড়া বাসীদের অভিযোগ, এই স্কুলের একাডেমিক ভবনের ফাউন্ডেশনে নিয়ম অনুযায়ী সিমেন্টের চেয়ে কম সিমেন্ট ব্যবহার ও (এলজিইডি)র উপসহকারী প্রকৌশলী সজল কুমার দাশ এর উপস্থিত থাকা অবস্থায় ভবনটি নির্মাণে নিম্নমানের কংক্রিটের গুঁড়ো ও লোকাল বালু মিশিয়ে ভবনের বেইস ঢালাই থেকে শুরু করে গ্রেট বিমেও এইসব নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্মাণ কাজে পর্যাপ্ত পরিমাণ সিমেন্ট না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ঢালাই কাজ চালিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া যায়।
এলজিইডি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) হতে ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাগমারা বাজার সংলগ্ন বাগমারা পূর্ব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর একাডেমিক ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ পায় রাঙ্গামাটি জেলার কমল কান্তি দেওয়ান নামে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে এই কাজটি কিনে নিয়ে বাস্তবায়ন করছেন রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম মনির। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্কুল ভবনটি নির্মাণ কাজের শুরুতেই অফিসের প্রকৌশলীদের ম্যানেজ করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করে। এলজিইডির এই কাজটি দেখাশোনা করার দায়িত্বে আছে রোয়াংছড়ি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার দিবাকর রায় ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী সজল কুমার দাশ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনটির বেইস ঢালাই থেকে গ্রেড বীম পর্যন্ত সিলেট সিন (সিলেকশন বালু) এর সাথে লোকাল বালু, ভেজাল কংক্রিটের গুঁড়ো, কম পরিমাণ সিমেন্ট মিশিয়ে ঢালাই মিক্স করা হয়। লোভ দেখানো কিছু পরিমাণ দৃশ্যমান ভালো সিলেকশন বলু রেখে জনচক্ষুর আড়ালে ঢালাই কাজে এইসব নির্মাণের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়।
এ ব্যাপারে নোয়াপতং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার মেসিং মারমা বলেন, স্কুল ভবনটির কাজের মান ভালো হচ্ছে না। গ্রেড বিম করার সময় সিমেন্ট কম দেওয়া হয়েছে এবং ঢালাইতে নিম্নমানের কংক্রিট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এরকম সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণ করলে আগামীতে স্কুল ভবনটি ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে স্কুল ভবনে ঠিকাদার মো. সাইফুল ইসলাম মনির বলেন, স্কুল ভবনের কাজটি আমি কমল কান্তি দেওয়ানের কাছ থেকে কিনে নিয়েছি। রোয়াংছড়ি থেকে ভালো কংক্রিট এনে কাজ করতেছি এখানে কাজের মন খারাপ হওয়ার তো কথা না। কাজ করার সময় ইঞ্জিনিয়াররা উপস্থিত ছিল তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করেন বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলা (এলজিইডি) অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সজল কান্তি দাশ বলেন, আমি উপস্থিত থেকে ঢালাই কাজ করেছি আমার সাথে স্কুলে প্রধান শিক্ষকও ছিলো ওই রকম তো কিছু দেখলাম না। আপনাদের সন্দেহ হলে কংক্রিট ভালো কেনা পরীক্ষা করে দেখেন।
বিষয়েটি জানতে (এলজিইডি)র রোয়াংছড়ি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার দিবাকর রায়ের মোবাইল ফোনে বারবার ফোন করার পরেও তার মোবাইলে সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বান্দরবান জেলা (এলজিইডি) অফিসের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টা রোয়াংছড়ি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার কে আমি জানাবো, এখানে কোন আমাদের দায়িত্ব নেই। এ কাজে সরাসরি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার দায়িত্ব পালন করছে বলে তিনি জানান।
বান্দরবান জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুস সাদাত মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, স্কুল ভবনের কাজ হয় উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে। এগুলো আমাদের জেলা অফিস থেকে পেমেন্ট হয় না। কাজগুলো দেখাশোনাও আমরা করি না। আপনারা উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলেন বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষঃ