সোমবার, ২৭শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

লক্ষ্মীপুরে হাতুড়ি-হাপরের টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারিরা

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরে দা, ছুরি, হেঁসেল ধামা ইত্যাদি তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কামারিরা। ভোর থেকে টানা রাত দ্বিপ্রহর পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এতে করে বিশ্রামের ন্যূনতম ফুসরত পাচ্ছেন না। বছরের এই একটি দিনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন তারা। সারা বছর কাজ সীমিত থাকলেও কোরবানির ঈদের এ সময়টাতে বেড়ে যায় তাদের কর্মব্যস্ততা।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের কামার পল্লীগুলো এখন লোহার হাতুড়ির টুংটাং শব্দে সরগম। জেলার ঐতিহ্যবাহী দালাল বাজারের কামার পল্লীতে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে দা, বটি, চাকু, কুড়াল, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো সব যন্ত্রপাতি।

আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর সদর রায়পুর রামগঞ্জ চন্দ্রগঞ্জ কমলনগর রামগতি উপজেলাসহ প্রায় সকল হাট-বাজারেই ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার পল্লীর শ্রমিকরা।

একদিকে কোরবানির ব্যস্ততা অন্যদিকে এ জেলার অধিকাংশ মাঠ জুড়ে বেড়ে উঠছে সোনালী ফসল ধান ও সয়াবিন। ধান কাটার কাঁচি তৈরি হচ্ছে প্রায় প্রত্যেক দোকানেই।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, শহরের কামারপট্টি, দালাল বাজারের কামার পট্টি, রাখালিয়া কামার পট্টি, লক্ষ্মীপুর বাজারসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব সরঞ্জাম তৈরি করা হচ্ছে। সবগুলো কামারের দোকানে বিদ্যুৎ চালিত শান মেশিন ব্যবহার করে অল্প সময়ে অধিক কাজ করছেন কামাররা। শান দেয়া হচ্ছে লোহার তৈরি পুরাতন সরঞ্জামগুলোতে। তৈরিকৃত এসব লোহার পণ্য বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে। অপরদিকে বাড়িঘরে পড়ে থাকা দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত (ভোতা) দা, ছুরি, বটি কোরবানি উপলক্ষে শান দিতে মানুষ নিয়ে আসছে কামারের দোকানগুলোতে।

মান্দারী বাজার, চন্দ্রগঞ্জ বাজার, দিঘলি বাজার, দাসের হাট, কুশাখালি বাজার, তেয়ারীগঞ্জ, ভবানিগঞ্জ, তোরাবগঞ্জ, চরলরেন্স, হাজিটহাট, রাখালিয়া বাজার, বাসাবাড়ী, হায়দার গঞ্জ, রায়পুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন দামে ছুরি, বটি, চাপাতি বিক্রি হচ্ছে দোকানগুলোতে। প্রতি পিছ চাকু ১০০-২৫০ টাকা, দা ৪০০-৬০০ টাকা, ৫০০ টাকা কেজি দরে চাপাতি, জবাই ছুরি ৮০০-১২০০টাকা এবং বটি ৩০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকাচ্ছে দোকানিরা। এছাড়াও পুরনো সকল যন্ত্রপাতি শান দিতে গুণতে হচ্ছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।

রায়পুর কামার পট্টির দুলাল কর্মকার, বল্লভ কর্মকারসহ একাধিক কামাররা জানান, প্রতি সোমবার ও শুক্রবার সপ্তাহের দুই দিন হাটবার। সারা বছর টুকটাক বেচাকেনা হয়ে থাকে। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে এক সপ্তাহ ভালো বেচাকেনা হয়। আশা করি ঈদের আগে দুই সপ্তাহের মধ্য আরো ৪টা হাট বার পাবো।

রাখালিয়া বাজারের কামার মানিক কর্মকার বলেন, কোরবানির ঈদ এখনও প্রায় ৬দিন বাকী। এখন আমরা কোরবানিতে ব্যবহৃত চাকু, ছুরি, চাপাতি ইত্যাতি তৈরি করে রাখতেছি। বেচাকেনা শুরু হয়নি। ঈদের ৪/৫দিন পূর্ব থেকে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হবে।

দালাল বাজারের কামারপট্টির কামারা রাত-দিন পরিশ্রম করে এসব সরঞ্জাম তৈরি করছেন। তবে ঈদের বেশ কিছুদিন বাকি থাকায় কামার পট্টিতেত এখনও ক্রেতাদের তেমন দেখা যাচ্ছে না। যদিও দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা জমে উঠবে বলে প্রত্যাশা কামারদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষঃ