বৃহস্পতিবার, ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

স্বয়ংক্রিয় টোলে ১০ শতাংশ ছাড়, বেড়েছে ব্যবহারকারীর সংখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমানে সারাদেশের ১০টি সেতু-মহাসড়কের দ্রুতগতির লেন ব্যবহার করে ইলেক্ট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) বা স্বয়ংক্রিয় টোল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত টোলের ওপর ১০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। এতে গত ছয় মাসের ব্যবধানে এসব স্বয়ংক্রিয় টোল প্লাজাগুলো থেকে টোল আদায় বেড়েছে ২৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা।ইলেক্ট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) বা স্বয়ংক্রিয় টোল সংগ্রহ এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে টোল গেট অতিক্রম করার সময় গাড়ি না থামিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই টোল পরিশোধ করা যায়। গাড়িতে বিদ্যমান সচল ও কার্যকর রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) ট্যাগের মাধ্যম টোল দেওয়া যায়।

এ প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো, এটি সড়কের যানজট কমায়। অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সাশ্রয়, টোল সংগ্রহের ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয়, মহাসড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধি, টোল সারিতে অপেক্ষা করার সময় সংক্ষিপ্ত করা ও যানবাহনের ধোঁয়া নির্গমন কমিয়ে পরিবেশ দূষণের মাত্রা কমানো। বিশ্বজুড়ে ইটিসি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার অন্যতম মূল কারণ হলো- এ পদ্ধতিতে টোল দিতে গাড়িচালকদের নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন হয় না।

মেঘনা সেতু, গোমতি সেতু, ভৈরব সেতু, শহীদ ময়েজউদ্দিন সেতু, আত্রাই টোল প্লাজা, চরসিন্ধুর সেতু, খান জাহান আলী সেতু, লালন শাহ সেতু, পায়রা সেতু, শাহ আমানত টোল প্লাজায় ইটিসি লেন চালু রয়েছে।

গত জুলাই মাসের হিসাব অনুযায়ী, ইটিসি লেন ব্যবহার করে শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজায় ৩ হাজার ২১টি যানবাহন থেকে ২১ লাখ ৬১ হাজার ১৮৪ টাকা, মেঘনা ও গোমতি সেতুতে ৭ হাজার ৫৭৬ যানবাহন থেকে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭০৩, ভৈরব সেতুতে ৫ হাজার ৭৫৮ যানবাহন থেকে ১১ লাখ ২৮ হাজার ৩৩১, শহীদ ময়েজউদ্দিন সেতুতে ৫ হাজার ১৪৩ যানবাহন থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬১, আত্রাই টোল প্লাজায় ২১ যানবাহন থেকে ৬৫২, খান জাহান আলী সেতুতে ৭৩৭ যানবাহন থেকে ৫৪ হাজার ৪১৫, লালন শাহ সেতুতে ৫৩ যানবাহন থেকে ৩ হাজার ২১৭ ও পায়রা সেতুতে একটি যানবাহন থেকে ৯৫ টাকার টোল আদায় করা হয়েছে। তবে চরসিন্ধুর সেতু থেকে কোনো টোল সংগ্রহ হয়নি।গত সাত মাসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ইটিসি লেন ব্যবহারকারী ২০ হাজার ৬৭৪ যানবাহন থেকে ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫৫ টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯ হাজার ৫৯৭ যানবাহন থেকে ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪০, মার্চ মাসে ২২ হাজার ২১৮ যানবাহন থেকে ৪৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬১০, এপ্রিল মাসে ১৯ হাজার ১৪২ যানবাহন থেকে ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৩২০, মে মাসে ২২ হাজার ৯৬ যানবাহন থেকে ৪৮ লাখ ১০৮, জুন মাসে ২১ হাজার ৩৬৯ যানবাহন থেকে ৪৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৬৪ এবং জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ৪০৩ যানবাহন থেকে ৭৫ লাখ ২৮ হাজার ৫০৯ টাকার টোল স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদায় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইটিসি সিস্টেম দ্রুত গতির লেন ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দিলে এ পদ্ধতিতে টোল প্রদানে মোটরযান চালকরা আগ্রহী হবেন। তাই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টোল সংগ্রহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ইটিসি লেন ব্যবহারে অনুপ্রাণিত করতে অর্থ বিভাগের সম্মতির আলোকে দ্রুতগতির লেন ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ধারিত টোল থেকে ১০ শতাংশ অর্থ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি হয়। পরে গত ৩০ মে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব ফাহমিদা হক খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ১ জুন থেকে এই ছাড় কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর থেকে ইটিসি লেন ব্যবহারে ১০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম টোল প্লাজায় ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাইলটিংয়ের উদ্দেশ্যে একটি করে ফাস্ট ট্র্যাক ইটিসি লেন চালু করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার গাড়ি পার হয়। এতো বিপুল সংখ্যক গাড়ি থেকে টোল আদায় করতে গিয়ে কোনো কোনো লেনে প্রায়ই ৩-৪টি গাড়ির লাইন তৈরি হয়ে যায়। এছাড়া ঈদে কিংবা বিভিন্ন উৎসবে গাড়ির সংখ্যা যখন ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায় তখন লেনে গাড়ির লাইন অনেক দীর্ঘ হয়। ফাস্ট ট্র্যাক লেন ব্যবহার করে টোল প্লাজায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি পারাপার করা সম্ভব হচ্ছে। টোলের ফলে যাতে যানজটের সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যেই এই লেন করা হয়েছে।সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের (টোল ও এক্সেল) উপসচিব ফাহমিদা হক খান বলেন, সারাদেশে ১০টি সেতু ও মহাসড়কে স্বয়ংক্রিয় টোল সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে এ পদ্ধতিতে টোল প্রদানে ১০ শতাংশ ছাড়ের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত ১ জুন থেকে এই ছাড় কার্যকর হয়েছে। আগের তুলনায় এখন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। আমরা মানুষকে জানাতে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছি, সামনে আরও সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছি।যেভাবে ইটিসি লেনে টোল পরিশোধের প্রক্রিয়াডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের নেক্সাস-পে অথবা রকেট অ্যাকাউন্টের টোল কার্ড ব্যবহার করে এই সুবিধাটি পাওয়া যায়। সুবিধা পেতে গাড়ির নম্বরটি টোল কার্ডের সাথে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের যে কোনো শাখা, ফাস্ট ট্র্যাক বা নেক্সাস-পে থেকে রেজিস্ট্রেশন করে টোল কার্ডের প্রয়োজনীয় ব্যালেন্স নিশ্চিত করা হয়। সহজেই ব্যবহারকারীর গাড়িতে বিদ্যমান সচল ও কার্যকর রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) ট্যাগের মাধ্যম টোল প্রদান করা যায়। ফলে নগদ টাকা প্রদানের জন্য কাউকে টোল প্লাজায় এক মুহূর্তও অপেক্ষা করতে হয় না। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ও বাধাহীনভাবে ফাস্ট ট্র্যাক লেন ব্যবহার করে যানবাহন টোল প্লাজা অতিক্রম করতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, ইটিসি লেন নিয়ে আমরা ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছি। আমরা সবার মুঠোফোনে এসএমএস পাঠিয়েছি। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছি, টিভিতে স্ক্রলও দিচ্ছি। আমরা জনগণকে ইটিসির বিষয়টি জানাতে চাই। এই বিশেষ লেন ব্যবহার করলে টোলের ওপর সরকার ১০ শতাংশ ছাড় দেবে। এতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করি। এখন গাড়ি যা যাচ্ছে, সামনে আরও বেশি যাবে। যেহেতু এই লেনে টোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না তাই প্রচারণার ফলে এর ব্যবহারকারী অনেক বাড়বে বলে আশা করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষঃ