সোমবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

হলে সিট বাণিজ্যের প্রতিবাদে রাবি শিক্ষকদের মানববন্ধন

অজয় ঘোষ, রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে সিট বাণিজ্য, হলে শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও নিপীড়ন এবং শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
সোমবার বেলা ১১ টায় বিশ^বিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসময় ‘আবাসিক হলগুলো দখল মুক্ত করতে হবে, সিট বাণিজ্য বন্ধ করে শিক্ষার্থীদেরকে মুক্ত করো, নিয়ম মেনে শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা নিশ্চিত করো, সংকট সমাধানে রাকসু নির্বাচন চাই’ প্ল্যাকার্ড হাতে এমনসব দাবি জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীনের সঞ্চালনায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কাজী মামুন হায়দার বলেন, শুধু আবাসিকতার কথা বল্লেই হবেনা। শিক্ষার্থীরা ডাইনিংয়ে কি খায় প্রশাসন কি কখনো খোঁজ খবর নিয়েছে? নেয়নি। বিশেষ বিশেষ লোকের জন্য বিশেষ বিশেষ রান্না হয় হলে। প্রভোস্টদের প্রত্যেক বেলা ডাইনিংয়ে খাওয়া উচিত। যখন প্রভোস্টরা হলে খেতে যান তখন খাবারের মান পাল্টে যায়। বাংলাদেশ ছাড়া এমন নিকৃষ্টতম কাজ আর অন্য কোনো দেশে হয় কিনা আমার জানা নেই। আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূখ্য উদ্দেশ্য আজকে ধ্বংসের মুখে, যার ফল আমরা ভোগ করছি।
বৈধভাবে সিট বরাদ্দ পেয়েও দিনের পর দিন বাইরে থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কোনো শিক্ষার্থী হলে উঠলেও তাদেরকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমনকি সাংবাদিকরাও সত্য তুলে ধরতে গিয়ে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অনেকের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও রুম দখল করে আছে এবং প্রচার সেল, প্রকাশনা সেল রুমে লিখে রুম দখল করে রেখেছে। ফলে একজন হলের মসজিদের ইমামও তার রুম পাচ্ছে না। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, যোগ্যতার ভিত্তিতে সিট বন্টন রুন, না হলে ছাত্র-শিক্ষকের আন্দোলন আরো ভয়াবহ হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেন মোল্লা বলেন, আমি আমার মেয়ের কাছে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ভয়াবহতার কথা শুনেছি। মেয়েদের জন্য সান্ধ্য আইন করা হয়েছে এর পিছনে কারণ কি? এর পিছনে কারন হলো বখাটে ছেলেদের হাত থেকে মেয়েদেরকে রক্ষা করা। ক্যাম্পাসতো বখাটে ছেলেদের জন্য নয়। প্রশাসনের আশ্বাসে ছাত্রলীগের অনেককর্মী বখাটে হয়ে উঠছে। তাদেরকে এখন দমন করতে পারছে না বলে এই সান্ধ্য আইন। দেশে এরকম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার জন্যে আমরা দেশ স্বাধীন করিনি। আজকের বাংলাদেশ আমাদেরকে হতাশ করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষঃ