সোমবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

NEWS24 টিভিতে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করায় ক্ষুব্ধ ধামরাইয়ের জনগণ

রাজিউল হাসান পলাশঃ দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল NEWS24 টিভিতে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করায় ক্ষুব্ধ ধামরাইবাসি। গত ০১ জুলাই ধামরাইয়ের ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী যশোবাধবের রহযাত্রা অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রচার করে টিভি চ্যানেলটি, এসময় রথযাত্রা অনুষ্ঠানের লাইভ চলাকালে টিভির স্ক্রলে “সাভারের ধামরাই” এবং “সাভারের ৪০০ বছরের পুরোনো রথযাত্রার অনুষ্ঠান” লিখাটি প্রচার করে যা কিনা সম্পূর্ণ ভুল। এই অভিযোগে ধামরাইবাসি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

ধামরাই ঢাকা জেলার একটি বৃহৎ উপজেলা যার সংসদীয় আসন ঢাকা ২০। এ উপজেলা শুধু ঢাকাতেই না বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম উপজেলা। ধামরাই উপজেলার ইতিহাস অনেক পুরোনো। ধামরাই থানা ১৯১৪ সালে গঠিত হয় এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৫ সালে। ধামরাই উপজেলার আয়তন: ৩০৩.৩৬ বর্গ কিমি। উত্তরে মির্জাপুর ও কালিয়াকৈর উপজেলা, দক্ষিণে সিঙ্গাইর ও মানিকগজ্ঞ সদর উপজেলা, পূর্বে সাভার উপজেলা, পশ্চিমে সাটুরিয়া ও নাগরপুর উপজেলা।

ধামরাইয়ে রয়েছে প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ অশোকস্তম্ভ। ১৯৭১ সালে ধামরাই বাজার থেকে পাকবাহিনী ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে কালামপুর বাজারের কাছে নির্মমভাবে হত্যা করে।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন গণকবর ১ রয়েছে কালামপুরে (কালামপুর বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে)।
এছাড়া এ উপজেলায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ৪১০, মন্দির ১৩২, গির্জা ১, প্যাগোডা ১, মাজার রয়েছে ৬ টি।

শিল্প ও কলকারখানা সিরামিকশিল্প, পাটশিল্প, জুতাশিল্প, এ্যালুমিনিয়ামশিল্প, ঔষধশিল্প, বস্ত্রশিল্প, বুননশিল্প, ইটভাটা, করাতকল, চালকল, হিমাগার, বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে ধামরাইতে।

ধামরাইয়ে রয়েছে তামা কাসা জিনিসপত্র তৈরির কারখানা যা বাংলাদেশের অন্য কোথাও নেই। রয়েছে কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, হস্তশিল্প।

ধামরাইয়ে হাটবাজার রয়েছে প্রায় অর্ধশত, মেলা হয় ৫ টি, যেমনঃ ধামরাই বাজার, শ্রীরামপুর বাজার, কালামপুর বাজার, ইসলামপুর বাজার ও কুশুরা বাজার এবং জগন্নাথ রথযাত্রার মেলা, ভক্তের মেলা ও পৌষ সংক্রান্তি মেলা উল্লেখযোগ্য।

এমন ঐতিহাসিক উপজেলা ধামরাইয়ের পরিচয় সাভারের নাম দিয়ে সংবাদ প্রচার করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ধামরাইবাসি। চ্যানেলটির সংবাদ দেখে জানা যায়, রথযাত্রা অনুষ্ঠানের দিন লাইভ সহ প্রতিবেদন করেছিলেন প্রতিবেদক নাজমুল হুদা।

বিষয়টি নিয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা রুবেল মোল্লা লিখেছেন, ঢাকা সম্পর্কে এইটুকু জানেন না শুধু শুধু সাংবাদিকতা করেন কেন?

রাজিব হোসাইন লিখেছেন, সাভারের সিনিয়র সাংবাদিক ভাইদের বলছি এরকম মিথ্যা থেকে বিরত থাকুন। দেশবাসীকে বিভ্রান্তিতে ফেলবেননা দয়া করে। ধামরাই ঢাকা জেলার অনেক বড় উপজেলা এমনকি তা সাভারের চেয়েও বড়।

মাকসুদ খান মিরাজ লিখেছেন, সাভার ধামরাই অঞ্চলে রিপোর্টিং করে অথচ ধামরাই যে একটি স্বতন্ত্র উপজেলা এই তথ্যটুকু ওনার জানা নেই তাহলে ওনি কোন মানের সাংবাদিক বুঝাই যাচ্ছে, হোক প্রতিবাদ।

আরিফ খান জয় নামে এক তরুন লিখেছেন এরপর এইরকম ভুল নিউজ করলে আমি ব্যাক্তিগতভাবে তার নামে কোর্টে মামলা দিবো।

আইনজীবী আবুল কালাম লিখেছেন, তথ্য প্রদানে সতর্ক হোন জেনেশুনে তথ্য বিকৃত করা ফৌজদারি অপরাধ।

সাংবাদিক আবু হাসান লিখেছেন, আমিও এর তীব্র প্রতিবাদ করছি, সাংবাদিকতা যারা করেন তারাতো অধিকাংশ সঠিকটা জেনে নিউজ করে থাকেন। সাংবাদিকদের কাছে জাতি সঠিকটা জানতে চায়। এভাবে তথ্য বিভ্রাট করে করে লাভ কি ভাইজান? সাভার কি জেলা যে ধামরাই তার অন্তর্গত হবে?

সাংবাদিক আদনান হোসেন লিখেছেন, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি, কিছু মিডিয়া এখনও ধামরাই কে সাভার লিখে, এটা ভুল এমন ভুল তথ্য দেয়া ঠিক না। ধামরাই একটি স্বতন্ত্র উপজেলা।

এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক সমাজ ধামরাইয়ের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, ধামরাই ঢাকা জেলার একটি বৃহৎ উপজেলা। “সাভারের ধামরাইয়ে রথযাত্রা” শিরোনামে সংবাদ প্রচারের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টিকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই – একজন সাংবাদিককে তথ্য উপস্থাপনে অবশ্যই দায়িত্বশীল হতে হবে। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে তথ্য উপস্থাপনের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা প্রতিবেদকের উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভুল বলে মনে হচ্ছে – এ বিষয়ে তাঁকে কারণ দর্শানো উচিত হবে বলে মনে করি। এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে সকলকে আরো সোচ্চার হতে হবে।

এ বিষয়ে প্রথম আলো পত্রিকার সহকারী সম্পাদক মাহমুদ ইকবাল বলেন, ধামরাই ইতিহাস সম্বলিত একট বৃহৎ উপজেলা। ধামরাইকে সাভারের পরিচয় দিয়ে সংবাদ পাঠানো একটি কু কৌশল বলা যেতে পারে। কারন ধামরাইকে অতি গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রচার করলে এ উপজেলায় নতুন প্রতিবেদক দিবে মিডিয়া হাউজ তাই এই প্রতিবেদক এমন কৌশলের আশ্রয় নেয় বলে আমার মনে হচ্ছে। মিডিয়া হাউজ গুলো একই সাথে কয়েকটা উপজেলার দায়িত্ব একজন প্রতিবেদককে দেয়, প্রতিবেদক নাজমুল হুদাও সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই নিয়ে কাজ করে। তারমত এমন সিনিয়র একজন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে এমনটা আশা করা যায় না। এমন ভুল যেন তিনি আর না করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষঃ